শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:২১:৫৮

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০১:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


পুলিশের হাতে ট্রাকচালক আহতের ঘটনায় দুই ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ

মোঃ সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর (কুমিল্লা):

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর (থোল্লার মোড়) এলাকায় পুলিশের লাঠির আঘাতে ট্রাক চালক হাবিবুর রহমান (২৯) আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাকের চালক, হেলপার ও শ্রমিকসহ এলাকাবাসী এসে রাস্তা অবরোধ করে জড়িত পুলিশের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। দুই ঘন্টা পর পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
 
জানা যায়, দেবিদ্বার থানার একদল পুলিশ সি-এন্ডবি গ্যাস ফিল্ড এলাকায় বিভিন্ন গাড়ী থামিয়ে টাকা-পয়সা আদায় করে আসছিল। এমতাবস্থায় সিলেট থেকে আসা একটি পাথর বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৪৮৭৩) কুমিল্লার দিকে যাবার পথে পুলিশ গাড়ীটি থামানোর চেষ্টা করে। চালক ট্রাকটি অতিক্রম করে মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর (থোল্লার মোড়) এলাকায় চলে আসলে পুলিশ সিএনজি যোগে দ্রুত এসে ট্রাকটি গতিরোধ করে। তখন চালককে ট্রাক থেকে নামিয়ে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে।
 
এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ট্রাক চালকের পকেটে থাকা ৮ হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। 

খবর পেয়ে অন্যান্য ট্রাকের চালক, হেলপার ও শ্রমিকসহ এলাকাবাসী এসে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে জড়িত পুলিশের শাস্তি দাবি করে। মুরাদনগর থানা পুলিশ ও কোম্পানীগঞ্জ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করে এবং জড়িত পুলিশের বিচারের আশ্বাসে দুই ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।

বিক্ষুব্ধ গাড়ীর চালকগণ অভিযোগ করে জানায়, গাড়ীর কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও পুলিশ প্রতিনিয়তই গাড়ী থামিয়ে দেদারসে চাদাঁবাজি করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গাড়ী আটকে রাখে। বাধ্য হয়ে চালকরা টাকা দিয়ে গাড়ী ছাড়িয়ে নেয়। সোমবার দুপুরে দুইটি ট্রাক থামিয়ে ছয় হাজার ও অন্যান্য ছোট গাড়ী থেকে কয়েক হাজার করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সিএনজি ও ট্রাক চালকরা অভিযোগ করে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই দেবিদ্বার থানা পুলিশ ও মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ সিএন্ডবি গ্যাস ফিল্ড এলাকায় গাড়ী ধরার অভিযানে আসে। মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ আসে তাদের নিজস্ব গাড়ী নিয়ে, আর দেবিদ্বার থানা পুলিশ আসে সিএনজি চালিত অটোরিকসা নিয়ে। সোমবার সিএনজি চালিত অটোরিকসা যোগে তিনজন পুলিশ সিএন্ডবি গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। তবে তারা কোন জায়গার পুলিশ তা জানাতে পারেনি।
 
বিষয়টির ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সোমবার আমার থানার কোন পুলিশ সিএন্ডবি এলাকায় দায়িত্বে ছিল না। মুরাদনগর থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, ট্রাক চালককে মারধরের ঘটনায় দেবিদ্বার থানা নাকি মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টির অনুসন্ধান চলছে।
 
মিরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, আমার হাইওয়ে ফাড়ির পুলিশ ওই সময় মকিমপুর এলাকায় দায়িত্বে ছিল। রাস্তা বন্ধের খবর পেয়ে থোল্লার মোড় এলাকায় গিয়ে উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

সংবাদটি পঠিতঃ ২২৯ বার


সর্বশেষ খবর