স্যরি সাকিব, আপনি ভুল বলছেন
শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:২৪:০৬

প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৫ ০৫:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

স্যরি সাকিব, আপনি ভুল বলছেন

আমি জানি, উল্টোটা লিখতে পারলেই সবাই খুশী হতেন; যেটা সাকিব বলেছেন।

এবং আগামী ক দিন ধরে পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের পর্দায় আমরা সেই ‘উল্টো’ কথাটাই বলবো; সেটা বলার জন্যই আমাদের বেতন দেওয়া হয়।

আমরাও সাকিবের মতো বলার চেষ্টা করবো যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশই ফেবারিট।

কিন্তু সমস্যা হলো, এই কথাটা সত্যি না।

আমার এই রায় শুনে রাগ করতে পারেন, আমাকে দুটো গালি দিতে পারেন, আমার দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ পোষন করতে পারেন। কিন্তু এই ঘোর থেকে বের হয়ে আসার জন্য বাস্তবতাটা জানা জরুরী। এটা বোঝা জরুরী যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা সিরিজ জিতে যেতে পারি; তারপরও সিরিজ-পূর্ব অবস্থায় আমরা কিছুতেই ‘ফেবারিট’ নই।

জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে এই ফেবারিট শব্দের ওজন বহন করার মতো দল এখনও বাংলাদেশ হয়ে ওঠেনি। সে প্রস্তুতিও বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর নেই।

আগে একটু ভেবে দেখা যাক, সাকিব বা রিয়াদ নিজেদের ‘ফেবারিট’ কেন ভাবছেন? কেনই বা দর্শকদের মধ্যেও এমন একটা আবহ তৈরী হয়েছে যে, বাংলাদেশ দল ফেবারিট!

কারণ, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে এসেছে। পাকিস্তানও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। অতএব গনিতের হিসেবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমান সমান!

আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ‘ফেবারিট’ হয়ে যাচ্ছে, কারণ খেলাটা আমাদের দেশের মাটিতে।

কী চমৎকার গনিতের হিসাব!

এই হিসাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাস, পাকিস্তানের ইতিহাস। দুই দেশের ক্রিকেট কাঠামো, প্রস্তুতি; কোনো কিছুর স্থান নেই। শুধু আবেগ আর তাৎক্ষনিকতায় ভেসে যাওয়া ছাড়া কিচ্ছু নেই।

এভাবে ক্রিকেট হয় না।

একটা সোজা কথা হলো, বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। আর পাকিস্তানের মতো দলের কাছে প্রায় সর্বনিম্ন। ফলে এক কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে কিছুতেই দুই দলের তুলনা চলতে পারে না।

তাই যদি হতো, তাহলে ২০০৭ সালে ভারতকে হারানোর ফলে বাংলাদেশ তাদের চেয়ে শ্রেয়তর দল হয়ে যেতো। তা হয় না।
শ্রেয়তর দল হয়ে ওঠার কতোগুলো প্রক্রিয়া আছে।

বাংলাদেশকে জিততে থাকতে হবে, র্যাং কিংয়ে ওপরে উঠতে থাকতে হবে; দাপট দেখাতে থাকতে হবে। আর এই সবকিছুর জন্য দেশে ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ভারত-পাকিস্তানে তিনটি করে যে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট টূর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, তার যে কোনো একটির অতলে হারিয়ে যেতে পারে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের পিকনিক ভার্শন।

বাংলাদেশের যে ঘরোয়া ক্রিকেট, তাতে এসব বড় দলের সঙ্গে এক পাতে আলোচনা করারও সময় এখনও আসেনি।

প্রশ্ন করতে পারেন, এই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে আমরা কী করে মাঝে মাঝে বড় দলগুলোকে হারাই?

এটা আসলে ক্রিকেটেরই একটা বিস্ময়।

বাংলাদেশ যে কখনো কখনো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয়; এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে শুধু আমাদের দেশে অমিত প্রতিভাধর কিছু ক্রিকেটের জন্মায় বলে। যারা কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়া স্রেফ ইচ্ছার জোরে, দর্শকের ভালোবাসার জোরে মিরাকল ঘটিয়ে ফেলে।

হ্যা, মিরাকল।

কিন্তু সমস্যা হল, মিরাকল দিয়ে ফেবারিট হওয়া যায় না।

আমি বলছি না যে, বাংলাদেশ কখনোই এই অবস্থা থেকে বের হতে পারবে না। অবশ্যই পারবে।

খুব বেশী দিন নয়। আজই যদি বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তারা সিরিয়াসলি ভাবনা শুরু করেন, দেশের অন্তত প্রতিটি বিভাগে সিরিয়াস ক্রিকেটের আয়োজন শুরু করেন; দুই বছরের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা সত্যিই ফেবারিট হয়ে উঠবো। ওদের বলে কয়ে হারাতে পারবো।

আপাতত নয়।

আমরা আপাতত জয়ের আশা করবো। প্রতিটা ম্যাচেই জয়ের আশা করবো; সিরিজ জয়ের আশা করবো। আশা করবো যে, বাংলাদেশ অনেক অনেক মিরাকল ঘটিয়ে দেবে।

কিন্তু নিজেরা অন্তত মাশরাফিদের ফেবারিট ধরে নেব না।

তাতে দুটো খুব বড় সমস্যা। এই ফেবারিট তত্ত্বটা দারুন চাপে ফেলে দিচ্ছে দলকে। তার চেয়েও বড় সমস্যায় পড়বেন আপনি।

বাস্তবতা ভুলে গিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ফেবারিট ভেবে নিয়ে খেলা দেখবেন; সৃষ্ঠিকর্তা না করুন, হেরে গেলে গালিগালাজ করবেন এবং শোকাহত হবেন।

অযথা এই বিপদ টেনে আনবেন না। অযথা নিজেদের এগিয়ে ভাববেন না। ওতে আপনিও ভারমুক্ত থাকবেন, মাশরাফিরাও থাকবে।
 

সংবাদটি পঠিতঃ ২৯৫ বার


ট্যাগ নিউজ