মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০১:৫৯:০১

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ ০৩:০৬:৪৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মহালছড়ির কেয়াংঘাট ইউপি ভবন এখন অপরাধীদের আখড়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কমপ্লেক্স ভবন। দরজা-জানালা না থাকায় এবং চারপাশের জঙ্গলের কারণে অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হলেও মাথা ব্যথা নেই কারোর। ভবনের এ অবস্থার কারণে বিগত দু’দশক ধরে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৩০ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে,  দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার জনসাধারণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদ। বর্তমানে এই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামে প্রায় ৬০ হাজার লোকজনের বসবাস। জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও নাগরিক সনদসহ প্রায় সব ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিগত দুই দশকের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে কেয়াংঘাট ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন পরিণত হয়েছে ‘গোয়ালঘরে’। দরজা-জানালা না থাকায় এবং চারদিক জঙ্গলে ভরে যাওয়ায় অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে ভবনটি। ভবনের প্রতিটি কক্ষে গরু-ছাগলের মলের পাশাপাশি দেওয়ালগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ লেখা। শুধু তাই নয়, ভবনে বিগত ২০ বছরে জাতীয় বা গুরুত্বপূর্ণ দিনে কখনও উড়েনি জাতীয় পতাকা।

এলাকাবাসী মিলন চাকমা বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি এখন গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। চারদিক থেকে জঙ্গলে ঘিরে ফেলায় এবং দরজা-জানালা না থাকায় এটি এখন অপরাধীদের আখড়া হয়ে গেছে। এখানে কোনও কার্যক্রম চলেনা, তাই কোনও নাগরিক সুবিধাও পাওয়া যায় না। তাছাড়া বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময় অবহেলিত থাকায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা জাতীয় দিবসে উড়েনি জাতীয় পতাকা।

রত্না চাকমা বলেন, ‘সব ধরণের সুবিধা থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা কোথায় বসেন কেউ জানে না। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিও কেউ রাখেননি।

সুষমা চাকমা বলেন, ‘যোগাযোগের সমস্যার কথা বলে চেয়ারম্যান এখানে বসতে চান না। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। তারপরেও এখন কেন তিনি আসেন না, তা জানি না। শুনেছি, চেয়ারম্যান পাশের মাইছছড়ি ইউনিয়নের বাজারে বসেন। সেখানে কোনও সেবা নিতে হলে ২০০ টাকা যাতায়াত ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। ২০ টাকার সেবার জন্য ২০০ টাকা খরচ করা এলাকাবাসীর পক্ষে অসম্ভব।’ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ভবনটি সংস্কার করে কার্যক্রম পুরোদমে চালুর দাবী জানান সুষমা চাকমা।

কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ইউপি কমপ্লেক্স ভবনের দরজা ও জানালা না থাকায় সব ফার্নিচার চুরি হয়ে গেছে। এখন গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে ভবনটি। চেয়ারম্যান মাইসছড়ি বাজারে

বসেন। ইউপি কমপ্লেক্স ভবন সচল না থাকায় লোকজন এখান থেকে প্রত্যাশিত কোনও সেবা পাচ্ছেন না।

কেয়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চাকমা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে যাওয়া হয় না। এখন থেকে ১৫/১৬ বছর আগে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইউপি ভবনের সামনে একজনকে গুলি করে হত্যার পর পরিষদের সচিব ও সদস্যরা নিয়মিত যান না। তাই আজ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের এই অবস্থা। ভবনটি আধুনিকভাবে নির্মাণের জন্য সরকারের পরিকল্পনা আছে। নির্মিত হলে নিয়মিত সেখানে অফিস  চলবে।

ভবনটি ব্যবহার না করায় এলাকার মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন, এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘জীবন দিয়ে কারও সেবা করতে পারবো না।

ভবন প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘কেয়াংঘাট ইউপি কমপ্লেক্স ভবনের বিষয়টি আমি জেনেছি। গুরুত্বের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তাছাড়া মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে অবগতও আছে, ব্যবস্থাও নেবে। সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে জনসাধারণ প্রত্যাশিত সেবা পাবেন।

সংবাদটি পঠিতঃ ১১২ বার