শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:০৬:১৯

প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭ ০৯:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী কমেছে ৩৫ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

আগামী ২ এপ্রিল থেকে ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা, ১৬ থেকে ২৫ মের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে, যা গতবারের চেয়ে ৩৪ হাজার ৯৪২ জন কম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৩৪ হাজার ৯৪২ জন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ২০১৫ সালে যশোর বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের পর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী কমায় এবার এইচএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার ২ হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্র্রে ৮ হাজার ৮৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। পরীক্ষার্থী কমলেও গতবারের চেয়ে এবার ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৪৫টি পরীক্ষাকেন্দ্র্র বেড়েছে।

এবার এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ ৯৬ হাজার ৯১৪ জন এবং ডিআইবিএসে ৪ হাজার ৬৬৯ জন পরীক্ষা দেবে বলে জানান নাহিদ। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন ছাত্র এবং ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন ছাত্রী।

মন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্র্রে ২৭১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে, এর মধ্যে ১২৯ জন ছাত্র এবং ১৪২ জন ছাত্রী। এবার ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। গত বছর ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়। এইচএসসিতে ২০১২ সালে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হয়। ২০১৩ সালে ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়েছিল।

নাহিদ বলেন, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকবে না। এবারো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবেন। আর অটিস্টিকসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা পাবেন অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পরীক্ষাকেন্দ্র্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছবি তোলা যায় এমন ফোন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও সঙ্গে রাখতে পারবেন না। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কেন্দ্র্রে প্রবেশ নিষেধ। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হবে আশা করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, তোমরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে ছুটো না। অভিভাবকদের কাছে আবেদন এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা যেন নজর না দেয়। শিক্ষকতা সব থেকে মহত কাজ, তাদের সম্মান-মর্যাদা পেতে হলে সে রকম করে চলতে হবে।

পরীক্ষা এলে নানা জন নানা উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, এর সঙ্গে শিক্ষকরাও যুক্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু তারাই আমাদের শেষ ভরসা। তাদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই, চিহ্নিত হচ্ছেন। একজন শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, আরেকজনকে বরখাস্তের আদেশ যাচ্ছে।

প্রশ্ন ফাঁসের নামে ছেলেমেয়েদের বিভ্রান্ত করা হয় জানিয়ে নাহিদ বলেন, যারা ভুল প্রশ্ন পায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো কোনো অঞ্চলে সীমিত পরিসরে প্রশ্ন প্রকাশ হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চাই। শিক্ষকদের মধ্যে যারা বিপথগামী হয়ে গেছেন তাদের শিক্ষক হিসেবে থাকার আর অধিকার নেই।

যে কারণে কমলো পরীক্ষার্থী : ২০১৫ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ২০১৫ সালে যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে ফল বিপর্যয়ের পর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ায় এইচএসসিতে এবার মোট পরীক্ষার্থী কমেছে বলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৪ সালের এসএসসিতে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩১ জন পাস করে। আর ২০১৫ সালে পাস করেছিল ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন। ২০১৪ সালের থেকে ২০১৫ সালে এসএসসিতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী কমে ২০ হাজার ৭১৩ জন। ফলে ওইবার ২০ হাজার ৭১৩ জন কম শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়।

অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, ২০১৫ সালে যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে ফল বিপর্যয় হলে এই বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৪৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৬ সালে পাসের হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশ। ফলে যশোর বোর্ডে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৮২ জন কমে যায়। এসএসসিতে পাসজনিত কারণে এবারের এইচএসসিতে ২০ হাজার ৬১৩ জন এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী কমায় আরও ২৫ হাজার ৭৮৩ জন পরীক্ষার্থী কমেছে বলে জানান তিনি।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও এদের মধ্য থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৫ জন এইচএসসিতে অংশ নেবে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৪ জন। এর বাইরে এবার ৩ হাজার ২৬২ জন প্রাইভেট এবং ৬ হাজার ২৫ জন মানউন্নয়ন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

বিবন্ধন করেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাই পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে না। নিবন্ধন করে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয়, টেস্টেও অনেকে বাদ পড়ে। কিছু শিক্ষার্থী চাকরি বা পড়াশোনার জন্য বিদেশে যায়। নানা কারণে ড্রপ আউট হয়, কেউ যাতে ঝরে না পড়ে সে বিষয়ে আমরা জোর দেব।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি পঠিতঃ ২৭৭ বার


সর্বশেষ খবর