সাড়ে চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২৩:১৬

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সাড়ে চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

দুদফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সারাদেশের প্রায় তিন হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের অনেকগুলোরই ভবন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরও প্রায় দেড় হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে এই সাড়ে চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে ভবন নির্মাণ ও মেরামতসহ অবকাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই মানের বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলসহ অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই ভবন নেই। কোনো কোনো ভবনে নেই ছাদ। আবার ছাদ থাকলেও তা পুরনো, জীর্ণ ও ভঙ্গুর প্রায়। কিছু কিছু বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হয় খোলা মাঠে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ও পুরনো ১ হাজার ৫৬৭টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদন নিয়ে এলজিইডির মাধ্যমে এসব ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার স্কুলের মেরামতের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এর জন্য ২০ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক ড. নূরুল আমিন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল মেরামত করি। কখনও বেশি, কখনও কম। এ বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন হাজার স্কুল। এসব স্কুলের ভবন মেরামতের জন্য প্রস্তাব তৈরি করেছি। তবে এখনও সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। আশা করছি শিগগিরই তা পাঠানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া এ বছর ১ হাজার ৫৬৭টি স্কুলে নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এলজিইডির মাধ্যমে কাজটি শুরুও হয়ে গিয়েছে।’ যদিও প্রয়োজনের তুলনায় এমন উদ্যোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের ভবন পুরাতন ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে এমন খবর স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রায়ই আসে মন্ত্রণালয়ে। বরাদ্দ স্বল্পতার জন্য এর সবগুলোতে সংস্কার কাজ করা যায় না। এমন সংকটের কথা স্বীকার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে এমন সংকট থেকে বের করে আনতে হলে আরও বেশি বেশি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় বিদ্যালয় নেই, সেসব এলাকায় বিদ্যালয় নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া বিদ্যালয়গুলোকে মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় আনতে এরই মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৩ হাজার ৬০১টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। আর সারাদেশে ৬৩ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ভবন পায়নি দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলসহ প্রায় শতাধিক বিদ্যালয়। দুর্যোগে ভবন অথবা স্কুলের বেড়া, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে এসব এলাকায় অনেকটা অস্থায়ী ভিত্তিতেই কম খরচে বিদ্যালয় স্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে এই চর্চায়ও আসছে পরিবর্তন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান ফিজার জানিয়েছেন, ওইসব অঞ্চলের বিদ্যালয়ে সরকার টেকসই মানের ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সংবাদটি পঠিতঃ ৭২ বার