প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সরকারি দলের লোকরা জড়িত
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৯:৪৯

প্রকাশিত : রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ ১১:২৭:৩৬ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সরকারি দলের লোকরা জড়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য সমস্যা হয়ে পড়েছে। এর পেছনে সরকারি দলের রাঘব বোয়ালরা জড়িত থাকায় কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না।'

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মরণ ব্যাধি বলে অভিহিত করেছেন।

এসময় রিজভী বলেন, ‘সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। দলীয়করণ করে শিক্ষার মান ধ্বংস করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবীদের বাদ দিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আবার পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিতে বোর্ড থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকদের।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের জন্য ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলোকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন,  ‘ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের অস্ত্রবাজি ও দখলবাজিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মুমূর্ষু হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ধ্বংস করার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভোটারবিহীন সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আমলে প্রশ্ন ফাঁস আরও বেড়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন; বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন এবং এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি, পিইসি, এমনকি নার্সিং পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। কোনও কোনও পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও শিক্ষামন্ত্রী নির্লজ্জের মতো তা অস্বীকার করেছেন। পরে জনমতের চাপে সেই পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্যও হয়েছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির মূল হোতারা ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় এসব ঘটনার বিচার হয়নি দাবি করে রিজভী আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক রানা ও হল শাখার নাট্য সম্পাদক মামুনসহ ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। দেশকে পরনির্ভরশীল করতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সরকার। দেশের একজন প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী বলেছেন, রাষ্ট্রকে ক্রিমিনাল স্টেটে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেছেন, ‘রোববার প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, ‘‘উন্নয়নের জোয়ারে দেখেন দেশ কোথায় চলে গেছে। আজ আমরা বিশ্বের জন্য এক বিস্ময়। আগামী ১০-১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে যুক্ত হবে।’’ আসলে বিনা ভোটে আরও ক্ষমতায় থাকার লালসা থেকে তারা এসব কথা বলছেন। যখন তারা উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলছেন, তখন মানুষ ঢাকা শহরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ঢাকা তলিয়ে গিয়ে সেখানে এখন ফায়ার সার্ভিসের নৌযান চলছে। আগামী ১০-১৫ বছর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে তাহলে স্থলপথের নিশানা থাকবে কিনা সন্দেহ আছে। দেশ তখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে।

‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর বক্তব্যে বিএনপি নেতারা মহা খুশি হয়েছেন’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ মন্তব্যের ব্যাপারে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে বলতে চাই, আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আপনারা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আওয়ামী মার্কা নির্বাচন করানোর চেষ্টা করছেন। আপনার বক্তব্যেই প্রমাণিত হয় যে, আপনারা নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার নীলনকশা করছেন। কারণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি ঐতিহাসিক সত্য উচ্চারণ করতেই আপনারা বিচলিত হয়ে পড়েছেন।

সোমবার রাত সাড়ে আটটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান রিজভী।

সংবাদটি পঠিতঃ ৭৪ বার