গোপালগঞ্জের ২৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২৬:৩২

প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:৪০:৫৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

গোপালগঞ্জের ২৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ: 

গোপালগঞ্জ জেলার ৮৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪৬টিতে দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই।  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে এ সব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।  প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে নেই কোনো জবাবদিহিতা।  সেই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম একেবারেই ভেঙে পড়েছে।  অপর দিকে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২৫৩টি।  ফলে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

তথ্য মতে, ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় ৮৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।  আর শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৮ জন।  যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই কোটালীপাড়া উপজেলায় ২৮ জন, কাশিয়ানী উপজেলায় ৬০ জন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭৬ জন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ২৭ জন ও মুকসুদপুর উপজেলায় ৫৫ জন। সহকারী শিক্ষক নেই কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৩ জন, কাশিয়ানী উপজেলায় ৩৫ জন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১৬ জন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ০৪ জন ও মুকসুদপুর উপজেলায় ৮৫ জন। সব মিলে এ উপজেলায় ২৫৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।  ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে নানান সমস্যা ও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকেরা ছুটি না নিয়েও স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন।  এতে পাঠদান চলছে যেন তেন ভাবে।  তাছাড়া ইচ্ছা মতো স্কুলে আসলে-গেলেও দেখার কেউ নেই।

এ সব বিদ্যালয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা বেশির ভাগ সময় দাপ্তরিক কাজে সংশ্লিষ্ট দফতরে ব্যস্ত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান অনেক শিক্ষক ও এলাকাবাসী।  

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৪৬টি বিদ্যালয়ে অবসর, বদলি, মৃত্যু ও পদোন্নতি জনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে।  এ সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী এলাকাবাসি শিগগিরই প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।  সেই সাথে তারা বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত ও সুন্দর পরিবেশ ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ ভূইয়া জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  ২৪৬ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের কথা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সংবাদটি পঠিতঃ ৭৯ বার