মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০১:৫৩:৪৫

প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৭ ০৪:৩৪:৪২ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

১৬ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বোমা হামলার বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ঝুলে আছে। রমনার বটমূলে বোমা ফাটানোর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় হলেও সাক্ষী না আসায় শেষ হচ্ছে না বিস্ফোরক  আইনের মামলার বিচার কার্য। হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। যা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় আছে। যদিও এরই মধ্যে অন্য একটি মামলায় মুফতি হান্নানের ফাঁসি গত বুধবার রাতে কার্যকর করা হয়েছে।

অপরদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন। আগামী ২৪ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলার চার আসামি এখনো পলাতক। মামলাটির বিচারকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়ে ঢাকার মহানগর রাষ্ট্র পক্ষের কৌসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় বার বার সমন দেওয়া সত্ত্বেও সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসছে না। এতে বিচার বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, সাক্ষীদের হাজির করতে দফায় দফায় সমন দেওয়া হয়েছে। সাক্ষীরা আসছেন না। হত্যা মামলার রায়ের পর এ মামলার সাক্ষীদের আগ্রহ না থাকায় তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসছেন না বলে তিনি জানান। এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের হাজির না করে মামলা ঝুলিয়ে রাখছেন। গত দুই বছরে মাত্র দুইজনের সাক্ষী হাজির হয়েছেন। আমরাও চাই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। 

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে এই মামলায় প্রথম অভিযোগ গঠন করার পর সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একটি ধারা সংশোধন করে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর গত দুই বছরে মাত্র দুজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় ৮০ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত নয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতি সঞ্চার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়।  এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।

২০০১ সালে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয়েছে ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। মামলার ১৪ আসামির মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান (মৃত), মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা তাজউদ্দিন (সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর। এদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে এবং শেষোক্ত চারজন পলাতক।  অপর ছয় আসামিকেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে আটক এই ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লা ওরফে জুয়েল।

সংবাদটি পঠিতঃ ১৬২ বার