বিচারকের এজলাস নেই একমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনালে
শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:২৯:৫২

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ ১১:২৩:০২ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বিচারকের এজলাস নেই একমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনালে

বিশেষ প্রতিনিধি: 

বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দিনকে দিন বাড়ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। এটা সামগ্রিক অর্থে ইতিবাচক হলেও এর বিপরীত চিত্রও আছে। প্রতিনিয়তই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক নেতিবাচক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (যেটাকে সাইবার অপরাধ বলা হয়) সংঘটিত হচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে দেশে সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজের পরিসর বেড়েছে কয়েক গুণ। অথচ ২০১৩ সালে স্থাপিত এই ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত নিজস্ব এজলাসই পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ৬৪ জেলার জন্য একটি মাত্র সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আছে। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বসার কোনো এজলাস বা চেয়ার নেই। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে অন্যের এজলাসে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য আদালতের বিচারকাজ শেষ হওয়ার পর সাইবার আদালতের বিচার শুরু হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত ভবনের বিশেষ জজ আদালত ১ ও ৪ নম্বর আদালতের বিচারকাজ শেষ হলে সেই এজলাসেই চলে সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম।

২০১৩ সালে সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এর পর  ৮ সেপ্টেম্বর এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনালে ৪০০টি মামলা করা হয়। দিন দিন এই আদালতে মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

শামসুদ্দিন নামের নাটোর জেলার এক বিচারপ্রার্থী গতকাল বুধবার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এক মামলায় সাক্ষ্য দিতে ভোরে ঢাকায় এসেছেন। আদালতের কার্যক্রম দুপুর ২টায় হবে শুনেছি। তা-ও কখন শেষ হবে, জানি না। সকাল সকাল এ আদালতের কার্যক্রম হলে আমি আবার রাতের মধ্যে নাটোর চলে যেতে পারতাম।

শামসুদ্দিন আরো বলেন, শুনেছি এ আদালতের কোনো নিজস্ব এজলাস নেই। অন্য আদালতে বিচার হয়। যদি এজলাস থাকত, তাহলে আমার মামলা দ্রুত শেষ হয়ে যেত।

হনুফা আক্তার নামের আরেক বিচারপ্রার্থী বলেন, তিনি সিলেট থেকে এসেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় তার ছেলে আসামি। ছেলেকে এক নজর দেখতে আদালতে এসেছেন তিনি। ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রয়েছেন।

হনুফা আরো বলেন, আদালত বিকেলে বসবে বলে শুনেছেন। তখনই ছেলেকে হাজির করা হবে। আদালত সকাল সকাল বসলে ছেলেকে দেখে চলে যাওয়া যেত।

সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আমাদের বিশেষ জজ আদালত ১ ও ৪ নং আদালতের এজলাস শেয়ার করতে হয়। তাদের কার্যক্রম শেষ হলেই আমাদের আদালত বসে। ফলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।

পিপি আরো বলেন, সাইবার আদালত বসার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। প্রতিদিন দুপুরে বসার সময় দেয়া হলেও সব সময় একই সময়ে বসা যায় না। অন্য আদালতের সাক্ষ্য কার্যক্রম থাকলে কোনো কোনো দিন বিকেল ৪টায়ও বসতে হয়।

পিপি জানান, সারা বাংলাদেশ থেকে সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পাঠানো হয়। এই আদালতে এমনিতেই মামলার জট বেশি। তার মধ্যে নিজস্ব এজলাস না থাকাতে অনেক বিপাকে পড়তে হয়। দ্রুত সময়ে এই আদালতের নিজস্ব এজলাস স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১-এর পিপি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল বলেন, সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের কোনো এজলাস না থাকায় অনেক বিচারপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল থেকে আদালতের বারান্দায় তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া বিচারকের বসারও কোনো নির্দিষ্ট চেম্বার নেই। অন্য বিচারকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বসতে হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো নজর দেন না। চার বছরেও এজলাস পায়নি সাইবার ট্রাইব্যুনাল। দ্রুত একটি এজলাস দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ফৌজদারি মামলা বিশেষজ্ঞ মুনজুর আলম বলেন, সবাই যখন আদালতে কাজ শেষ করে ফেরার প্রস্তুতি নেন, তখন সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়। এ জন্য ঢাকার বাইরে থেকে যে বিচারপ্রার্থীরা আসেন, তাদেরও বাড়ি ফিরতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সাধারণত একটি আদালতে দিনে ৩০ থেকে ৩৫টি মামলার কার্যক্রম চলে। কিন্তু এ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব এজলাস না থাকায় দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি মামলার শুনানি করা যায়। এতে করে মামলা নিষ্পত্তির হার কমে যায়।

সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের  বেঞ্চ অফিসার শামীম আলম মামুন বলেন, দিন দিন এ আদালতের মামলার সংখ্যা বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলার রায় এ আদালত থেকে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণ একটি এজলাস থাকলে মামলার  নিষ্পত্তির হার অনেক বাড়ত।

শামীম আরো বলেন, এ আদালতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁস, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, ক্রিকেটার আরাফাত সানির মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার হয়েছে।

সংবাদটি পঠিতঃ ১৩৭ বার