মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১৯:১৪

প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭ ১১:৪৬:৩৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


মতবিরোধ কাটিয়ে একাট্টা হচ্ছে ১৪ দল

রোমান কবির: 

সরকার ও জোটে একক সিদ্ধান্ত নেয়া, শরীকদের মতামত না নিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজে নেমে পড়া, নামেমাত্র ১৪ দলের বৈঠকে আ.লীগের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া এরকম বেশকিছু অভিযোগ ও এ নিয়ে ক্ষোভ ছিল শরীক দলগুলোর মধ্যে। তবে সম্প্রতি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সব মতভেদ ভুলে একাট্টা হয়েছে ক্ষমতাসীণ আওয়ামী লীগ ও এর শরীক দলগুলো। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার কথা ভাবছে তারা। কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও দৃঢ় করা, সরকারের উন্নয়ণ দেশে বিদেশে আরও ছড়িয়ে দেয়া ও সরকারবিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব একসাথে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি। 

সম্প্রতি ১৪ দলের বেশকয়েকটি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সব বৈঠকে ১৪ দলের শরীক নেতারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ পেশ করলেও সব ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। গত বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিকদের এ অপপ্রচারের জবাব আমাদের দিতে হবে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নামতে হবে। সরকারবিরোধী অপপ্রচার রোধ করতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে ১৪ দলকে একাতœ হয়ে কাজ করতে হবে। নাসিমের এই বক্তব্যে সায় দিয়ে ১৪ দলের শরীক নেতারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এদিকে আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের একটি বৈঠক হবে। বৈঠকে নির্বাচন ইস্যুতে কিভাবে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে এর দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়া মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিরিজ কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় অবস্থান নেবে তারা। অবশ্য ইতিমধ্যে প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর সম্পর্কে বিরোধীপক্ষ থেকে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে জোট শরিকরা সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। পৃথক বিবৃতি ও বক্তব্যের মাধ্যমে তারা সরকারের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। 

জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আগামী মাসে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় জোটগতভাবে সমাবেশ করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। এসব সমাবেশে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হবে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের সফলতার কথাও তুলে ধরা হবে। কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। বৈঠকে ঠিক করা হবে টুঙ্গিপাড়ার পর কবে কোন জেলায় সমাবেশ করা হবে।

এ বিষয়ে গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার বলেন, এখনও জোটের কর্মসূচি ঠিক করা হয়নি। তবে এসব সমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বড় সমস্যা হচ্ছে জঙ্গিবাদ। সরকার সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করছে। এগুলো সমাবেশে তুলে ধরা হবে। ১৪ দল একাট্টা হয়ে কাজ করে যাবে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে ১৪ দল গঠিত হয়। সে সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অনিয়ম দুর্নীত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা প্রথম সরকার গঠন করে। এবার বিএনপি-জামায়াত জোটের তান্ডব প্রতিহত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠিত হয়। আন্দোলন সংগ্রামে না থেকেও কিছু সুবিধাভোগী সংসদ ও সরকারের অংশীদারীত্ব পায়। তবে নির্বাচন আসলেই শরীকরা কিছুটা সাংগঠনিক তৎপরতা দেখায়। তবে এবার আওয়ামী লীগের সাথে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তাদের তৎপরতায় ১৪ দল একাট্টা হয়ে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হবে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি পঠিতঃ ৩১০ বার


সর্বশেষ খবর