কর্মকাণ্ড না থাকলেও নিবন্ধিত ছোট দলগুলোতে ভাঙাগড়া
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৮:০২

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:৪২:৪২ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

কর্মকাণ্ড না থাকলেও নিবন্ধিত ছোট দলগুলোতে ভাঙাগড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত অনেক ছোট দল আছে, বছরজুড়ে যেগুলোর তেমন কোনো কর্মকাণ্ড থাকে না। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দল হিসেবে এই দলগুলোর কদর বাড়ে। দলগুলোর মধ্যে চলে ভাঙা-গড়াও।

দলগুলোর নেতাদের অনেকে বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয় না। আবার অনেকের অভিযোগ, তাঁরা কর্মসূচি পালন করলেও গণমাধ্যমে সেগুলো আসে না।

এখন ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪০টি। আগামী নির্বাচন উপলক্ষে আরও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেবে ইসি। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি ও দেনদরবার শুরু হয়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন দল ও জোট।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপে ইসি দলগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে। দলগুলো নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করছে কি না, রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে কি নাইসি এসব অবহিত হচ্ছে। নতুন দলের নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রেও শর্ত মেনে চলা হবে।

বিদ্যমান নিবন্ধিত দলগুলোর একটি ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জন্ম নেয়া প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি)। সে সময় ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দলটির তেমন কোনো কার্যক্রম এখন চোখে পড়ে না। কর্মসূচি না থাকলেও ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর দলটি কোন্দলের জেরে ভেঙেছে। তিনি অসুস্থ থাকায় গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর কোরেশীর স্ত্রী নিলুফার পান্না কোরেশীকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়। একই দিন দলের আরেকটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়। তবে ইসি এই অংশকে বৈধতা দেয়নি। এই অংশ বিষয়টি নিয়ে আদালতে যায়। আদালত কোরেশীর কমিটির বৈধতা নিয়ে গত ২৮ আগস্ট রুল দেন।

সম্প্রতি সেগুন বাগিচায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সর্বশেষ কবে দলটি কর্মসূচি পালন করেছে জানতে চাইলে পিডিপির মহাসচিব এম এ হোসেন বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। তার দাবি, তাদের ৪০টি জেলায় কমিটি আছে।

আরেকটি নিবন্ধিত দল ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকটা স্থবির। দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, ইদানীং কর্মসূচি একটু কম হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন ২০টি জেলায় তাদের কমিটি আছে। আগে আরও বেশি ছিল।

তেমন কোনো কর্মসূচি চোখে না পড়লেও ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আরেক নিবন্ধিত দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। এর নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নীলু। ‘আম’ প্রতীক নিয়ে দলটি ইসির নিবন্ধন পেয়েছিল ২০০৮ সালে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়াকে কেন্দ্র করে ওই বছরের আগস্টে দলটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলে প্রথম ভাঙনের মুখে পড়ে। একটি অংশ একই নাম নিয়ে বিএনপি জোটে রয়ে যায়। নীলুর নেতৃত্বাধীন অংশটি দ্বিতীয় দফা ভাঙনের মুখে পড়ে গত মার্চে। নীলুর মৃত্যুর পর তার ভাই শেখ ছালাউদ্দিন এনপিপির নিবন্ধিত অংশের চেয়ারম্যান হন।

একদিকে যেমন ভাঙছে, অন্যদিকে তেমনি জোট গড়ারও চেষ্টা চালাচ্ছে প্রধান দুই জোটের বাইরে থাকা কিছু নিবন্ধিত দল। তেমন একটি দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। এই দলেরও সে রকম কোনো কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়। জানতে চাইলে দলের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি ও গণতান্ত্রিক দলগুলো নিয়ে জোট করার বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করছেন।

নয়াপল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের একটি পুরাতন ভবনের পঞ্চম তলার চিলেকোঠায় মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। গত বুধবার দুপুরে কার্যালয়ে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়। তাঁরা সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মুসলিম লীগের আরেকটি অংশ বাংলদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) নামে ইসিতে নিবন্ধিত। দলটি বিএনপি জোটের শরিক। দলটির সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খানের দাবি, ২৫-৩০টি জেলায় দলের সংগঠন আছে।

এ ধরনের আরেকটি দল গণফ্রন্ট। এর চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, তারা কর্মসূচি পালন করলেও গণমাধ্যমে সেসব আসে না। তারা গত এপ্রিলে বড় আকারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন করেছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ইসির নিবন্ধন পেয়েছিল সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটা অপরিচিত মুক্তি জোটের সভাপতি পদমর্যাদার পদের নাম ‘জাতীয় সমন্বয়ক দিশারী’। দলটির কার্যক্রম খুব একটা চোখে না পড়লেও এর ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ থাকে। ছড়ি প্রতীক নিয়ে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় ২০১৩ সালে। এখন পর্যন্ত জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

দলটির সংগঠনপ্রধান আবু লায়েস মুন্না বলেন, সারা দেশে ৩৮টি জেলায় তাদের কমিটি আছে।

বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা নাজমুল হুদা ২০১২ সালের ১০ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনএফ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন নাজমুল হুদা। কিন্তু ওই বছরের নভেম্বরে বিএনএফ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের চেয়ারম্যান আবুল কালাম রাজধানীর গুলশান থেকে সংসদ সদস্য হন।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কোনো দল সম্পর্কে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ইসি তদন্ত করবে। তদন্তে নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি পঠিতঃ ৮৪ বার