শনিবার ২০ জানুয়ারী ২০১৮, ০১:১২:২৯

প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ জুলাই ২০১৬ ০১:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সরকারি চাকরি ছেড়ে গানের প্রতিযোগিতায় খায়রুল

বিনোদন প্রতিবেদক

ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে সোনার হরিণ সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন গরীব কৃষক বাবার সন্তান খায়রুল ওয়াসি। কিন্তু যার একমাত্র ধ্যান জ্ঞান গান তাঁর তো ধরাবাঁধা চাকরিতে মন বসার কথা না। লোভনীয় সে চাকরি ছেড়ে গানের সাথেই চিরদিনের জন্য বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। অংশ নিলেন এবারের আড়ং ডেইলি চ্যনেল আই বাংলার গান ২০১৫-২০১৬ রিয়্যালিটি শো’র প্রতিযোগি হিসেবে। ৫৫ হাজার প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে উঠে এলেন টপ সেভেনে। ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এর গ্রান্ড ফিনালে। এখানে এসে থেমে নেই তিনি। ফাইনালে সাতজনকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হতে চান। 

লোক সঙ্গীতের এ অনুষ্ঠানের শুরু থেকে মনকাড়া সব গান গেয়ে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। অনুষ্ঠানের প্রধান বিচারক রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও আইয়ূব বাচ্চু তাঁর গানে মুগ্ধ। মুগ্ধ অন্য বিচারকরাও। এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হওয়ার জন্য এখন তাঁর প্রয়োজন ভোটের। (ভোট করার নিয়ম মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে ACBG স্পেস KHAIRUL লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে 6969 নম্বরে।) আগামী ২২ জুলাই এসএমএস করার শেষ দিন।

খায়রুল ওয়াসির জানান তাঁর স্বপ্নের কথা। ও বন্ধু যেতে হবে অনেক দূরে, এখানে নয় শেষ, আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন মোদের সেখানে উদ্দেশ- তাঁর এই গানের কথার মতোই আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ফরিদপুরের ছেলে খায়রুল ওয়াসিরের। তাঁর পুরো নাম খায়রুল ইসলাম। জন্ম ১৯৮৮ সালের ২২ আগস্ট ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার রায়পুর ইউনিয়নের জগন্নাথদী গ্রামে। বাবার নাম আলেক মাহমুদ, মায়ের নাম খাদিজা বেগম। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি মেজো। বড় ভাই আরাফাত মাহমুদ খোকন কলেজের প্রভাষক, ছোট বোন আবিদা সুলতানা ইতি পড়াশুনা করছেন। গানের হাতেখড়ি খুব ছোটবেলায় মায়ের কাছে। সাংস্কৃৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা খায়রুলের সেজো চাচা মোহাম্মদ আলীর কাছেও তখন তালিম নেন। তাঁর গানের প্রথম গুরু শ্যামল কুমার ভৌমিক। এরপর অবিনাশ চন্দ্র শীলের কাছেও গান শিখেন তিনি। ২০০৫ সালে মাহমুদুন্নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন খায়রুল। 

স্কুলে থাকার সময়ই লোক সঙ্গীতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলায় তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। তখনই জাতীয় পুরস্কারসহ বেশ কিছু জেলা ও থানাভিত্তিক পুরস্কার পান তিনি। ২০০৪ সালে জাতীয় শিশু একাডেমী থেকে দেশের গান প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হোন। গানের পাশাপাশি  লেখাপড়ায়ও তিনি অত্যন্ত মেধাবী। গরীব কৃষক বাবার সন্তান খায়রুল স্কুল থেকেই বিভিন্ন এনজিও এর সহায়তায় লেখাপড়া ও গানের চর্চা চালিয়ে যান। তাঁর মেধার জন্য তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃত্তি দেয়া হয়। 

২০০৭ সালে ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজ থেকে তিনি এইচ এসসি পাশ করেন। ২০১০ সালে ভর্তি হোন  ছায়ানটের লোক সংগীত বিভাগে। সেখানে তিনি টানা ছয় বছর পড়াশুনা করেন। এ সময় তিনি সেখানে শুদ্ধ সঙ্গীত, তালসহ বিভিন্ন বিষয়ে তালিম নেন। তিনি ঢাকা কলেজের ইংরেজী বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে একটি সরকারী চাকুরী নেন। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য তাকে চাকুরি ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি ঢাকা কলেজের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের গানের প্রতিযোগিতায় পর পর দু’বার চ্যাম্পিয়ন। ঢাকা কলেজের ১৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখা কলেজের থিম সং তারই লেখা ও সুর করা। এবং তিনি নিজেই এতে কণ্ঠ দেন। খায়রুল ওয়াসির এ বিষয়ে বলেন, তিনি ২০০৫ সাল থেকে নিজে গান লেখেন। এবং নিজেই এতে সুর করেন, নিজেই গান করেন। আর তখন থেকেই নিজেই একটা ব্যান্ড করার চিন্তা ভাবনা করেন। ২০১৪ সালে ‘একাল’ নামে একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন তিনি। তিনি লোক সঙ্গীত শিল্পী হলেও মূলত সব রকমের গান করেন।

তিনি জানান, মায়ের ইচ্ছায় তিনি এত দূর এসেছেন। তাঁর এখন ইচ্ছে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন। সারা জীবন গানের সাথেই থাকার প্রত্যয় তাঁর। এছাড়া গরীব মেধাবী ছেলে মেয়েদের সহযোগিতা করা ও পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা তার ইচ্ছার মধ্যে একটি। 

গানের ভুবনে এই পথ চলায় বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানো ঢাকা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর আয়েশা বেগম, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, আমেরিকান প্রবাসী ইমরান হোসেন, মাহমুদুল হাসান, বাঁধন, রোমেল মানিকসহ আরও অনেকের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সংবাদটি পঠিতঃ ৫৩৩ বার


ট্যাগ নিউজ