মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৫৭:১২

প্রকাশিত : বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ১১:০১:৪৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


ট্রাম্পকে পারমাণবিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি উ. কোরিয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট: 

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যে কোনও ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোরিয়া উপদ্বীপে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম সাবমেরিন পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রডং সিনমুনে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের বিপ্লবী শক্তিশালী সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের প্রতিটা পদক্ষেপ তীক্ষ্ণভাবে লক্ষ্য করছে। আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলো শুধু দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসী ঘাঁটিগুলোর দিকেও তাক করা আছে।

মার্কিন আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানো ঘোষণা এর আগেও দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। যার জবাবে মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা রণতরী পাঠাচ্ছি। যা খুবই শক্তিশালী। আমাদের শক্তিশালী সাবমেরিনও রয়েছে। আর তা এয়ারক্রাফট কেরিয়ার থেকেও বেশি শক্তিশালী।

ট্রাম্প চীনকেও পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তর কোরীয় সমস্যা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ভালো বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। উত্তর কোরিয়া সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। যদি চীন আমাদের সাহায্য করে, তাহলে তা খুবই ভালো হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একাই সমস্যার সমাধান করবে।

এদিকে উত্তর কোরিয়া নিয়ে ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানে’ পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানা যায়।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় বলেন, চীনের সহযোগিতা না পেলে উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে এককভাবেই পদক্ষেপ নেবে। ওই টুইট বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।  

চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বুধবার সকালে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয় শি জিনপিংয়ের। তবে হোয়াইট হাউস এ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।

সিসিটিভি জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে শি জিনপিং বলেন, ‘কোরিয়া উপদ্বীপে পারমাণবিক অস্ত্র নিষ্ক্রীয়করণে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সঙ্গে উপদ্বীপের সুরক্ষা, স্থিতিশীলতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চায় আমরা।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যখন আঞ্চলিক ও অন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন কোরীয় উপসাগরে রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দেশে পাঠানো কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ নামের ওই রণতরীতে রয়েছে একটি বিমানবাহী জাহাজসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ।

গত ৫ এপ্রিল জাপান সাগরে একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। এর আগে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তংচ্যাং-রি অঞ্চল থেকে জাপান সাগরে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। 

পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসংঘ বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি উত্তর কোরিয়া।

সংবাদটি পঠিতঃ ২৪৪ বার


সর্বশেষ খবর