আলফা পারভীনের কবিতা
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৪:৪০

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

আলফা পারভীনের কবিতা

১.

আমার সবকিছু যখন সবুজ দীর্ঘশ্বাস...

আকাশকে দেখার জন্য মুখ তুলতেই
আমার হাত–পা দীর্ঘ হতে থাকে
দীর্ঘ হতে হতে আমার মাথা আটকে যায় আকাশের ছাঁদে
আমি মিশে যাই বাতাসে...

যে রাস্তায় হেঁটে যাই তা দীর্ঘ হয় নদীর মতো
হাঁটতে হাটতে আমার পা পথ হয়ে যায়
সন্ধ্যা হয়ে ফিরে আসি জীবনের ঘরে
সে ঘর তখন ঘুম পাড়ানির বেলাভূমি
যা পাড়ি দিয়ে তোমার কাছে যেতে যেতে
আমি মাটি হয়ে যাই...

আমার ডাক নাম অন্ধকার;
সেই নাম কখনই শুনতে পাওনা তুমি।
আমার হাসির রোদটুকু তোমার শরীরে বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
আমার দীর্ঘশ্বাস তোমার কানে পৌছানোর আগেই
কত শত সাইক্লোনের শিশু চীৎকার করে ওঠে।
আর তোমার কাছে আসতে আসতে পার হয়ে যায়
শত শত কোটি বছর...

২.
মনটাকে আজ চিতায় তুলেছি
ঘি তেল ঢেলে পুড়িয়ে করবো ছাই
তবেই তো মিলবে সব অনুভূতির হাত থেকে মুক্তি...

মাটি কেটে কেটে জেগে ওঠা
মনটা উড়ছিল খুব বেশি আজ কাল
ডানা ভেঙে মরলো আজ। ভালই হয়েছে...

বিধাতার নির্লজ্জ হাসিকে আমি ঘৃণা করি
মন নিয়ে খেলাকে ঘৃণা করি
সে কি কখনও ভাবতে পারবে আমার মতো
সুতার কলকাঠি নাড়া বন্দ করে
কবে যে শিখবে ভালবাসতে...

৩.
পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা ছায়াটা ছিল নদীর। সেখানে নিজের সাঁতার গিলে যে মাছগুলো বেঁচে ছিল, তাদের ছায়াগুলো দেখতে গোলাপের মতো। চাঁদের ছায়াকে পৃথিবীতে জ্যোৎস্না হয়ে ঝরতে দেখেছি বহুবার। মাঝে মাঝে জ্যোৎস্নাকে কান্নার ছায়া বলে ভুল করেছি। তোমরা কি কখন কান্নার ছায়া দেখেছ?

আমার পায়ের নিচে জমতে শুরু করেছে কাঁদা। জমা কাঁদাপানিকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি কান্নার ছায়া? সে বলল, না; প্রতিদিন তুমি আয়নায় যে মুখ দেখ, আমি তার ছায়া। ছায়া কি কখন মিথ্যা বলে?

সংবাদটি পঠিতঃ ১৯৩ বার


ট্যাগ নিউজ