সত্যিকার নায়কদের গল্প
বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৪:২৮

প্রকাশিত : শনিবার, ০২ মে ২০১৫ ০৩:০১:৫০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সত্যিকার নায়কদের গল্প

সিনেমার পর্দায় শুধু নায়কের বাহাদুরি দেখে অভ্যস্ত আমরা। অথচ একটি সিনোময় একজন নায়ককে সত্যিকার নায়ক করে তুলে স্টান্টম্যান। তাদের কথা কখনো কেউ জানে না। ঘাম ঝরিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সিনেমার নায়কদের নায়ক করে তোলেন সেই ডামিম্যান বা স্ট্যান্টম্যানদের জীবন কাটে অবহেলায়। শ্রমিক দিবসে তাদের নিয়ে লিখেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।

নায়ক মানেই একাই একশো। তার বিপরীতে যতজনই থাকুক না কেন নায়কের সাথে পেরে ওঠে না কেউই। শুধু নায়ক না, ভিলেনরাও কখনো কখনো কুপোকাত করে নায়ককে। তাদেরও প্রচুর শক্তি। দশতলার উপর থেকে লাফ দিয়েও বেঁচে থাকেন নায়ক আর ভিলেনরা। কিন্তু সত্যি সত্যিই কি পর্দা কাঁপানো এই নায়ক আর ভিলেনরাই সেই লাফটা দেন? না। তাদের ডামি হয়ে লাফ দেন স্ট্যান্টম্যানরা।

জনপ্রিয় স্টান্টম্যান মিঠুর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ এফডিসিতে স্টান্টম্যান আছেন সর্বমোট ৭জন। এই সাতজনের বাইরেও বেশ কিছু স্টান্টম্যান আছেন যারা নিয়মিত কাজ করেন না।ঘুরেফিরে সাতজনকেই স্টান্টম্যান হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়। এফডিসি সূত্রে জানা যায়, আরমান ফাইটিং গ্রুপে স্টান্টম্যান আছেন ২জন, আপন-ভাতিজা ভাইটিং গ্রুপে আছেন-২জন সালাম ফা্ইটিং গ্রুপে-২ জন, আর আছেন মিঠু। এই সাতজন নিয়েই চলছে এফডিসির ডামি দৃশ্যের অভিনয়।

মূলত স্টান্টম্যানরাই একজন নায়ককে করে তোলে সত্যিকারের নায়ক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা স্টান্টম্যান এর ভূমিকায় অভিনয় করে। আর বাহবা কুড়িয়ে নেন নায়করা। জীবনের ঝুকি নেওয়া এই স্টান্টম্যানরা কি পান বিনিময়ে?

শ্যুটিংস্পটে স্টান্টম্যান মিঠু:

স্টান্টম্যানদের পারিশ্রমিক খুব বেশি নয়। বর্তমানে কোনো ছবির ফাইট দৃশ্যে অভিনয় করলে একজন ফাইটার পান ১৬০০ টাকা আর ডামি হিসেবে যখন স্টান্টম্যানরা কাজ করেন তখন ১৬০০ টাকার সাথে যোগ হয় অতিরিক্ত ২০০০ টাকা। সারাদিনে ৩২০০ টাকা পান এই স্টান্টম্যানরা। আবার প্রতিদিন কিন্তু তাদের কাজ থাকে না। ফলে টাকার পরিমাণটা খুবই সামান্য। আবার বিপদও আছে। ঝুকিপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে পঙ্গুত্ববরণ করা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কোনো অঘটন ঘটলে পরিচালক প্রযোজকরা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও মূল দায়িত্বটা নিজের কাধেই রাখতে হয়।এত ঝুঁকি এত কষ্ট করেও কেন স্টান্টম্যান হিসেবে কাজ করেন জানতে চাইলে মিঠু বলেন, চলচ্চিত্রের প্রতি এক ধরণের ভালোবাসা থেকেই এই কাজটা করি। আর এটাতো এখন আমাদের ব্যবসা। ব্যবসা করলে লাভ ক্ষতি থাকবেই।
এদিকে এফডিসিতে পরিচালক প্রযোজক শিল্পী সমিতি থাকলেও স্টান্টম্যানদের কোনো সংগঠন নেই। বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে এক স্টান্টম্যান বলেন, এফডিসিতে ফাইটারদের জন্য একটা সংগঠন আছে। ভাই ভাই সমিতি।এটি গঠন করে গিয়েছিলেন প্রয়াত চিত্রনায়ক জসিম।

স্টান্টম্যানদের কোনো সংগঠন না থাকার পেছনে জানা যায় মাত্র সাতজন সদস্য হওয়ায় স্টান্টম্যানদের কোনো সংগঠনের প্রয়োজন মনে করেন না তারা।

এবার একটু পেছনে ফেরা যাক।বাংলা সিনেমায় ডামির ব্যবহার শুরু হয় সূচনা সময় থেকেই। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই একদল ভিন্নচেতনার মানুষ গড়ে তুললেন একটি দল।দলটির নাম জেমস ফাইটিং গ্রুপ। তিনজন মানুষের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে গড়ে ওঠা সেই মানুষরা হলেন জসিম, আরমান বাবুল এবং মাহবুব।জসিমের জে, আরমানের এ, আর মাহবুবের এম এর সাথে যোগ হলো বহুবচনের এস। এই জেমস ফাইটিং নেতৃত্ব দিলো দীর্ঘদিন। জন্ম নিলো জেমস ফাইটিং গ্রুপের। সৃষ্টি হলো নতুন এক ইতিহাসের।সূচনা হয় বাংলাদেশের সিনেমা জগতে এক নতুন যুগের।

‘উত্সর্গ’ ছবিতে প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য যুক্ত হয়। রুহুল আমিন বাবুল পরিচালিত ছবিটিতে বেশ কয়েকটি ফাইটিং দৃশ্য ছিল। সব দৃশ্যের অ্যাকশন পরিকল্পনা করেছিলেন জসিম, আরমানরা। জেমস গ্রুপের দেখানো পথেই আজো পরিচালিত হয়ে আসছে এফডিসির ফাইটিং দৃশ্য। জসিমের মৃত্যুর পর ভেঙ্গে যায় জেমস গ্রুপ। আরমান চুন্নুরা কাজ করতে থাকে নিজেদের মতো। বর্তমানে ফাইটিং দৃশ্যের মূল কারিগর বলতে আরমান চুন্নুরাই।

সংবাদটি পঠিতঃ ৯৩০ বার


ট্যাগ নিউজ