জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:২১:০৩

প্রকাশিত : সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০১৭ ০৭:১০:২০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: 

ভারতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার দেশ বিক্রি করে দিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো জনগণ ও আঞ্চলিক কল্যাণে স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে দেশ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তারা অর্বাচীন। কারণ আমরা সামগ্রিকভাবে জনগণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছি। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটির ওপর আমরা ভরসা রাখছি। তিস্তা চুক্তি সই হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক রূপান্তরের নতুন পর্যায় অতিক্রম করবে। এটি হওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রূপান্তরের আরেকটি পর্যায় অতিক্রম করবে।

ভারত সফরের শেষদিন সোমবার ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।  নয়া দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বলেন, যারা বলে দেশ বিক্রি করে দিয়েছি, তারা অর্বাচীন।

গত শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি।

ওই সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে ইংগিত করে রোববার রাতে আইনজীবীদের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, আরও পাঁচ বছর ‘ক্ষমতায় থাকার জন্য’ বর্তমান সরকার ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ করেছে।

দেশে বর্তমানে সরকার যাদেরকে বলা হয়, তারা আসলে জনগণের সরকার নয়, তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। ভবিষ্যতেও তারা একই পরিকল্পনা করছে কীভাবে আবার ক্ষমতায় আসবে। আজকে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে। সেজন্য পাঁচ বছরের জন্য এটা একটা চুক্তি করেছে। কী? পাঁচ বছর তাকে থাকতে দিতে হবে। এই চুক্তি তো তিনি সেজন্য করলেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই দেখে গেলেন, দেশ বেঁচে দিলাম, না অর্জন করলাম।

বাংলাদেশে ব্যবসার বিস্তৃত সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা ভারতের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র এবং উন্নয়নের সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে। যৌথ সমৃদ্ধির দর্শন নিয়ে চলা বাংলাদেশ ও ভারতেরও সম্পর্কও এখন চমৎকার।

আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে আসুন এবং সুযোগগুলো কাজে লাগান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি বাস্তবঘনিষ্ঠ উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।

আমি নিশ্চিত, একসঙ্গে কাজ করলে এ অঞ্চলের মানুষ ও তাদের জীবন আমরা বদলে দিতে পারব।

তিস্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের অভিন্ন পানিসম্পদকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ করার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতেরক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনার সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত, অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা।’ তিস্তা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি যত দ্রুত সম্ভব চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শেখ হাসিনা একপর্যায়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটির ওপর আমরা ভরসা রাখছি।’

ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে হঠাৎই হিন্দিতে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিদিকি সাথ বাত হুয়ি। পানি মাঙ্গা মাগার ইলেকট্রিসিটি তো মিলা। কুছ তো মিল গেয়্যা।’ (দিদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। পানি না পেলেও বিদ্যুৎ তো পেলাম। কিছু তো পেলাম।)

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গোদরেজ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আদি গোদরেজ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

অন্যদের মধ্যে ভারতের অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বারস অব কমার্স অ্যন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (অ্যাসোচ্যাম) প্রেসিডেন্ট সন্দীপ জাযোদিয়া, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এফআইসিসিআই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট হর্ষ মারিওয়ালা।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক ধনী ব্যবসায়ী। আপনারা আসুন। বিদেশিদের জন্য ১০০ ইপিজেড করছি। আপনাদের বিনিয়োগ সফল করতে সব রকম ব্যবস্থা নেব। আপনারা আসুন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রিসভার সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রাণলয় ও বিভাগের সচিব এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।

সংবাদটি পঠিতঃ ১২৭ বার