মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০২:১০:৫৩

প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০১৭ ০৪:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, এএসআই প্রত্যাহার

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় ডাকা আধাবেলা হরতাল কর্মসূচিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এটিএন নিউজের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সহকারী উপ-পরিদর্শক এরশাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানার সামনে কয়েকজন পুলিশ মিলে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরা পারসন আবদুল আলিমকে ফেলে বেধড়ক পেটান। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিপোর্টার কাজী ইশান বিন দিদারও হামলার শিকার হন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- এডিসি (অ্যাডমিন) নাবিদ কামাল শৈবাল, এডিসি রমনা আজিমুল হক ও এসি রমনা ইহসানুল হক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সুন্দরবন বাঁচানোর হরতালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গরম পানি ছুড়ে মারে। এরপর দফায় দফায় তাদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি রাস্তার উল্টো দিকে ছিলেন। ঘটনাস্থল সিসি ক্যামেরায় আওতাধীন, যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বের করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়ার আগে থানা না ছাড়তে অনঢ় ছিলেন সাংবাদিকরা। পুলিশের পিটুনিতে আহত দুই সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শাহবাগ থানায় আনা হয়। পরে কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য এই দুই সাংবাদিকদের সামনেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আসা হয়। জানতে চাওয়া হয় এদের মধ্যে কেউ দোষী কি না।

পাঁচবারে ৫০ জন পুলিশ সদস্যকে হাজির করিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এদের কেউ হামলাকারী কি না। আর সাংবাদিকরা প্রধান সন্দেহভাজন সহকারী উপপরিদর্শক এরশাদ মণ্ডলসহ সাত জনকে চিহ্নিত করেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত দুই জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন,কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান ও কনস্টেবল সাগর।

এরই মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন এরশাদ মণ্ডলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার খন্দকার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সকালে জাতীয় কমিটির হরতালকে সমর্থনকারী বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হটাতে পুলিশের আচরণও ছিল আক্রমণাত্মক। তারা দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ও গরম পানি ছুড়ে।
সুত্র: আরটিএনএন

সংবাদটি পঠিতঃ ৩২৩ বার