সাংবাদিকদের সুখ-দুঃখের সাথী ডিআরইউ
শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১২:০৮:২২

প্রকাশিত : রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ ০২:৫২:০৬ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সাংবাদিকদের সুখ-দুঃখের সাথী ডিআরইউ

২২ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

’৯০-এর দশকে সাংবাদিক ইউনিয়ন দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পেশার উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের পথও ক্রমশ সংকীর্ণ হতে থাকে। অন্যদিকে সবধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকায় কর্মরত রিপোর্টারদের প্রবেশাধিকার (সদস্য) উন্মুক্ত ছিল না। এমন বাস্তবতায় প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকরা (রিপোর্টার) বিকল্প একটি সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করেন। ১৯৯৫ সালের ২৬ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দোতলায় বসেই তারা গড়ে তোলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-যা ডিআরইউ হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

১২৬ জন রিপোর্টার নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে শুক্রবার ২২ বছর অতিক্রম করে ২৩ বছরে পদার্পণ করল। ২৩ তম বছরে বর্তমানে ডিআরইউ-এর সদস্য সংখ্যা ১৬০০-এর ওপরে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে পেশাদার সাংবাদিকদের বৃহত্তর সংগঠনে পরিণত হয়েছে ডিআরইউ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে কেক কাটাসহ নানা আয়োজন রয়েছে। দ্বিধা-বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন যেখানে পেশাদার সাংবাদিকদের পেশার উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ে যথাপুযুক্ত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সাংবাদিকদের বিপদে-আপদে কিংবা সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে হচ্ছে, সেখানে ডিআরইউ সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক সদস্যের সুখে-দুঃখে সাধ্যানুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠার এই ২২ বছরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বা ডিআরইউ রিপোর্টারদের প্রাণের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ একটি প্লাটফরমের নাম এই ডিআরইউ।

প্রতিদিন দুপুরে সদস্যদের জন্য অল্প খরচে ক্যান্টিনে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা, বছরে একটি ফ্যামিলি ডে, ইফতার মাহফিল, বাংলা নববর্ষ পালন এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে আসছে। যেখানে নবীন-প্রবীণ সাংবাদিক এবং পরিবারের সদস্যদের মিলনমেলা ঘটে।

শুধু তাই নয়, কোনো সদস্যের বিপদে আপদেও সঙ্গী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। কোনো সদস্য মারা গেলে ইনস্যুরেন্স বা নিজস্ব অর্থায়নে পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা, কোনো সদস্য বিপদে পড়লে বা কোনো পক্ষের প্রতিহিংসার স্বীকার হলে বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ ও প্রতিকার কামনা এমনকি রাজপথে কর্মসূচিও পালন করে আসছে ডিআরইউ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের দুই সদস্য সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যাকা-ের পর রাজপথে সাংবাদিকদের যে কঠোর কর্মসূচি পালিত হয় তার মুখ্য ভূমিকায় ছিল ডিআরইউ। ওই আন্দোলনের সময় বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাব ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছিল। এমনকি বিভক্ত ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল তখন। যদিও পরে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নও আর ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই সংগঠনে একীভূত হয়নি।

এ ব্যাপারে ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ডিআরইউ’র মূলমন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ঐক্য-সৌহার্দ্য। অন্য সংগঠনের মধ্যে যেখানে অনৈক্য, কাঁদা ছোড়াছুড়ি, বিভেদ-বিভক্তি সেখানে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডিআরই এখন পর্যন্ত ঐক্য, সংহতি ধরে রেখেছে। সদস্যদের মধ্যে বিনি সুতোর মালার মতো একে অপরের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়ে আছে। যাদের প্রচেষ্টায় সংগঠনটি আজকের অবস্থানে এসছে ২২তম বার্ষিকীতে তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইভাবে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিকুল কবীরসহ যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমরা শুধু সদস্যদের জন্য নয়, দেশে-বিদেশে আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক চেতনার ধার না ধরে সাংবাদিকের স্বার্থকেই বড় করে দেখি। সাংবাদিকদের স্বার্থে রাজপথে আন্দোলন, বিবৃতি দিচ্ছি। এ জন্য আমাদের যারা সহযোগিতা করেন তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী বলেন, হাঁটি হাঁটি পা পা করে ডিআরইউ পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করেছে। ডিআরইউ ইতিবাচক সাংবাদিকবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমেই আজকের এই অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিকুল কবিরসহ যারা ওই সময় ভূমিকা রেখেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
 

তিনি বলেন, ডিআরইউ সাংবাদিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ একটি প্লাটফরম। আমরা এই ঐক্যটা ধরে রেখেই সাংবাদিকদের উন্নয়ন ও রিপোর্টারদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠায় যারা অগ্রভাগে ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন- মরহুম শফিকুল কবীর (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি) মোস্তফা ফিরোজ (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক), শাজাহান সরদার, আজমল হোসেন, আমান উদ দৌলা, অজিত কুমার সরকার, গাজী মেসবাহ উদ্দিন, শ্যামলদত্ত, রেজওয়ানুর রাজা, সাইফুল আমীন, মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, কাজী আব্দুল হান্নান, সাইফুল হুদা,আযম মীর, জাকারিয়াকাজল, মনির হোসেন লিটন, শামীম সিদ্দিক প্রমুখ।

অগ্রজ ও অনুজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিআরইউর কলেবর বৃদ্ধিতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যেছিলেন সাংবাদিক শাহজাহান সরদার, আলমগীর হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, শামীম সিদ্দিকী, রফিকুল ইসলাম রতন, শফিকুল করিম সাবু,মনির হোসেন লিটন, শাহেদ চৌধুরী, মোতাহার হোসেন মাসুম, শাহনেওয়াজ দুলাল, মাহমুদুর রহমান খোকন, আজমল হক হেলাল, মারুফ মান্নান,শাবান মাহমুদসহ ডিআরইউএর স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যরা।

সংবাদটি পঠিতঃ ১৬৯ বার