বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৮:১৬

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


মুশফিকদের ব্যাটিং শেখাচ্ছেন হাফিজ

 খুলনা টেস্টের প্রথমদিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন মুমিনুল হক সৌরভ। বলেছিলেন ৩০০ রানই যথেষ্ট। তার এ কথার রাখার দায়িত্বটা যেন অক্ষরে-অক্ষরে পালন করলো স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা। তা না হলে সাকিব-সৌম্য-মুশফিকরা কেনই বা ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করবেন?

খুলনা টেস্টের প্রথম দিনে তামিম-ইমরুল যেভাবে খেলা শুরু করেছিলেন, ঠিক তার বিপরীত চিত্র ছিল দ্বিতীয় দিনের খেলায়। স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের ধরণই বলে দিচ্ছিল তারা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং  দেখে মনে হচ্ছিল, খুলনার উইকেটে রান তোলা খুব কঠিন। মুমিনুলের সেই কথাতেই ফুটে উঠেছিল, রান তুলতে না পারার এই অব্যাক্ত বেদনা। অথচ, পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ বুঝিয়ে দিলেন, এই উইকেট থেকে কিভাবে রান তুলতে হয়।

সাকিবের আউট হওয়ার ধরন দেখেই একজন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ বলে বসেছিলেন, ‘ওয়ানডে মেজাজ থেকে এখনও বেরই হতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্টে কিভাবে বল মোকাবেলা করতে হবে, কিভাবে উইকেটে টিকে থাকতে হবে, সে শিক্ষা মনে হয় যেন রপ্তই করতে পারেনি তারা।’ বিপরীতে দেখা গেলো, হাফিজ আর আজহাররা টেস্টকেও বানিয়েছেন ওয়ানডে স্টাইল। ৫৮ ওভারে ২২৭ রান তোলাকে তো যে কেউ বলবে ওয়ানডে স্টাইল।

বুধবার খুলনা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিব-সৌম্যদের ক্রিজে এসেই যেন ছটফটানি শুরু হয়ে যায়। যেন বৈশাখের খরতাপে উইকেটে থাকার চেয়ে ড্রেসিং রুমের শীতল হাওয়ায় থাকাটাই শ্রেয়। আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা মুমিনুল হক বলেছিলেন, খুলনার উইকেট নাকি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

মুমিনুলের কথামত সত্যিই কি, খুলনার উইকেট ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে? নাকি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে ঘাটতি আছে? যদি দ্বিতীয় দিনেই খুলনার উইকেট ভীতি ছড়াত, তাহলে নিশ্চয় সেখানে অবলীলায় সেঞ্চুরিটা তুলে নিতে পারতেন না মোহাম্মদ হাফিজ। ৭১ বল মোকাবেলায় ৫২ রান নিয়ে চা-বিরতিতে গিয়েছিলেন পাকিস্তানি এ ডানহাতি ওপেনার। এমনকি সেঞ্চুরি পূরণ করার পর দিন শেষে ১৭৯ বলে ১৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন হাফিজ। বাউন্ডারি ১২ এবং ছক্কার মার ছিল ২টি।

টেস্ট মেজাজে কিভাবে ব্যাটিং করতে হয় সেটি যেন হাফিজ দেখাচ্ছিলেন আজহার আলীকে সঙ্গে নিয়ে। অথচ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দৃশ্য ছিল বেলা শেষের গানের মতো। কে কতোটা আগে ড্রেসিং রুমে ফিরতে পারেন, তার যেন ছোট্ট একটা প্রতিযোগিতাও হয়ে গেল। এ প্রতিযোগিতায় সামিল হতে বাদ গেলেন না স্বয়ং স্বাগতিক অধিনায়ক মুশফিকও।

[212021] সাকিব, সৌম্য ও মুশফিকরা যদি আরেকটু ধরে খেলতে পারতেন। তাহলে স্বাগতিকদের লড়াইয়ের পুঁজিটা আরও সম্মৃদ্ধ হতো। কিন্তু তারা সে পথে হাঁটতে চাননি। মুমিনুল হকের বেঁধে দেওয়া টার্গেটের দিকেই অগ্রসর হয়েছেন। তাইতো দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১৪ মিনিট ক্রিজে থাকতে পেরেছিলেন সাকিব আল হাসান। যদিও দেশসেরা এ ক্রিকেটারের কাছ থেকে বড় ইনিংসই প্রত্যাশা করেছিলেন মুশফিকুর রহিম।

সাকিব যেন এদিন ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি টেস্ট না কি ওয়ানডে খেলছেন?  তবে তার কাছে মনে হতেও পারে টি২০ ম্যাচ। এ কারণেই হয়তো,  জুলফিকার বাবরের বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বলটিকে মাঠ ছাড়া করতে চাইলেন। উল্টো লেগ-স্পিলে দাঁড়ানো আসাদ সফিকের কাছে নিজেকে সপে দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন। ঠিক সাকিবের ব্যাটিংটা যেন কপি করতে চাইলেন সৌম্য সরকার।

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত সাতক্ষীরার বাঁহাতি হাতি এ ক্রিকেটার দৃষ্টিনন্দন কয়েকটা বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দর্শকদের ক্ষনিকের জন্য আনন্দ দিয়েছিলেন; কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট ব্যাটিংটা যে এ রকম নয়, সেটি বুঝে উঠতে খুব একটা সময় পেলেন না তিনি। মোহাম্মদ হাফিজের করা বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে আসাদ সফিকের কাছে ধরা পড়লেন সৌম্য সরকার।

পরে শেষ ভরসা ছিল মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কও তার প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না। যদিও প্রথম থেকে একটু ধরে খেললেও অতি আক্রমনাত্বক হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেন। ইযাসির শাহ’র করা বলকে কাট করতে গিয়ে কাভারে দাঁড়ানো পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ’র হাতে নিজেকে সঁপে দিলেন মুশফিক (৩২)। তাতে করে বাংলাদেশের ইনিংসটাও আর বড় হতে গিয়েও থেমে গেল।

বাংলাদেশের করা ৩৩২ রানের জবাবে হাফিজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খুলনা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সফরকারীরা জবাবটা ভালোই দিচ্ছে। তাই হাফিজের ব্যাটিং দেখে মুশফিক-সাকিবরা একটা শিক্ষা নিতে পারেন।

সংবাদটি পঠিতঃ ১২৪ বার


ট্যাগ নিউজ

সর্বশেষ খবর