মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৬:০৮

প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৫০:৪০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


সিরামিক শিল্পের অন্তরায় পাইরেসি ও নিম্নমানের পণ্য

সিরামিক শিল্প স্বনির্ভর একটি শিল্পে রূপ নিলেও পাইরেসি ও নিম্মমানের সিরামিক আমদানি এই শিল্প বিকাশের প্রধান অন্তরায়। ফলে সামর্থ্য থাকার পরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় সিরামিক শিল্প।

 

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৫-১৬ প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ সিরামিক ওয়ারস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিডব্লিউএমএ) এ দাবি করে।

 

বিসিডব্লিউএমএ-এর পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেন সংগঠনের সভাপতি সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, ‘দেশীয় সিরামিক শিল্প বর্তমানে স্বনির্ভর একটি শিল্পে রূপ নিয়েছে। ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে বর্তমানে ৫০টির অধিক কারখানা রয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে গত ১০ বছর ১৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ রপ্তানিতে বর্তমানে ৪০০ কোটি টাকা আয় করছে এ শিল্প। তবে চায়না থেকে আসা পাইরেসি ও নিম্মমানের সিরামিক আমাদের বাজার নষ্ট করছে। তাই পাইরেসি বন্ধ ও নিম্মমানের সিরামিক আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা জরুরি।’

 

দেশীয় শিল্প রক্ষায় শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক ও এইচএস কোড জটিলতায় অনেক উপাদানে ৩৩ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এ বড় অঙ্কের শুল্ক দিয়ে কাঁচামাল আমদানির পর তা উৎপাদন করে প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাচ্ছে না। তাই দেশীয় শিল্প রক্ষায় ও রপ্তানি আয় বাড়াতে এ শিল্পে কাঁচামাল আমদানি শুল্ক মুক্ত করা ও বিদেশি সিরামিকসে শুল্ক হার বাড়ানো দরকার।’

 

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য বর্তমানে সারা বিশ্বে রপ্তানি হলেও চায়না নিম্মমানের পণ্য আমাদের বাজার দখল করে আছে। কাঁচামাল আমদানি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বেশি না হওয়ায় এক সেট পণ্য আমাদের ৩ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে চীনের কিছু কোম্পানি ২ হাজার টাকার কমেও এসব পণ্য দিতে পারে। যদিও এগুলোর স্থায়িত্ব কম ও স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর।’

 

বিদেশি তৈরি টাইলস ও স্যানিটারিওয়ার এবং সিরামিক ও গ্লাসের টেবিলওয়ার আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কতিপয় অসাধু আমদানিকারক আনডার ইনফ্লুয়েন্স করে এতটাই কম মূল্য প্রদর্শন করে যে, বাস্তবে আমাদের দেশে সংশ্লিষ্ট পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত কাচাঁমালের মূল্যও তার থেকে বেশি হয়। তা ছাড়া কম আমদানি শুল্কের সুবিধা নিয়ে নিন্মমানের পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছে।’ তাই এসব পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটসহ বিদ্যমান মোট শুল্কস্তর ১৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮৯ দশমিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, দেশীয় শিল্প রক্ষার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও তুরস্কসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সিরামিক পণ্যের আমদানির ওপর ১৫০ শতাংশ অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করা হয়েছে।
এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আগামী বছর থেকে পণ্য আমদানিতে সম্পূরক থাকবে না। সেক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে টিকে থাকতে হবে। আর পাইরেসি ও নিম্মমানের বিদেশি পণ্য প্রবেশে সবার সহযোগিতায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের অন্যান্য বিভাগের সদস্য, বাজেট প্রণয়ন কমিটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি পঠিতঃ ২৭২ বার


ট্যাগ নিউজ

সর্বশেষ খবর