মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০১:৫৯:৩০

প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ০৬:৫৩:২৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

গোপালগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শাঁখা শিল্প

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ শাঁখা।  সনাতন শাস্ত্রমত ও রীতি অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামীর কল্যাণে ও সধবা পরিচয় প্রদানের লক্ষে শাঁখা ব্যবহার করেন হিন্দু বিবাহিত মেয়েরা।

সমুদ্রের শঙ্খ দ্বারা তৈরী হয় শাঁখা। এই শাঁখা যারা তৈরি করেন তাদেরকে শাঁখারি বলা হয়।  গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শাঁখা শিল্প।  সমুদ্রের বড় বড় শঙ্খগুলো কেটে হাতের কাজের মাধ্যমে তৈরী করা হয় শাঁখাসহ এ শঙ্খের তৈরী বিভিন্ন জিনিস পত্র।  কিন্তু বর্তমানে শঙ্খের তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে শাঁখা শিল্প।  তারপরও শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের চাহিদা মেটাতে পূর্বপুরুষের এ পেশা এখনো ধরে রেখেছেন গোপালগঞ্জের কয়েকজন শাঁখারি।

শাঁখা শিল্পের প্রধান উপকরণ সমুদ্রের বিশেষ কয়েক প্রজাতির শঙ্খ থেকে আসে। আর এ শঙ্খগুলো দেশের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার কয়েকজন আমদানি করে থাকেন শ্রীলঙ্কা ও ভারত (পশ্চিম বঙ্গের কালিঘাট, ওডিশার পুরী, বিভিন্ন সমুদ্র এলাকা ) থেকে।  শাঁখা শিল্পের প্রধান বাজার ঢাকার শাঁখারী বাজার, খুলনার ধর্মসভা ও দোলখোলা থেকে শঙ্খ কিনে এনে নিজস্ব কারখানায় অলংকার তৈরি করেন শিল্পীরা।  ঢাকার শাঁখারী বাজার শঙ্খের অলংকার কেনা বেচার প্রধান কেন্দ্র হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে শঙ্খ ব্যবসার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।  হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ে, পূজা-পার্বণ উপলক্ষে শাঁখার অলংকার দীর্ঘ দিন যাবত ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

একটি ভালো আকৃতির শঙ্খ দিয়ে তিন জোড়া শাঁখা তৈরি হয়।  ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা করে একটি শঙ্খের দাম।  শঙ্খ গোলাকার করে কেটে বিভিন্ন আকারের বলয় তৈরি করা হয়।  এরপর সেটিকে শিল পাথরে ঘষে মসৃণ করা হয় এবং বিভিন্ন নকশা আঁকা হয়।  এ সব শাঁখা প্রতি জোড়া ৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়।  এ ছাড়া সোনা দিয়ে বাঁধাই করা শাঁখাও পাওয়া যায়।  এ গুলোর দাম সোনার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন শাঁখারি বলেন, এক সময় আশপাশের এলাকা থেকেও লোকজন এখানে শাঁখা কিনতে আসতেন।  কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন তার বিক্রি পরিমাণ কমে গেছে।  আস্তে আস্তে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অন্য ব্যবসা শুরু করছে।  আমাদের দুঃখ, কষ্ট, অভাব-অভিযোগ কেউ শোনে না, তাই এ শিল্প আজ ধ্বংস প্রায়।  পাঁচ বছর আগেও ১০-১৫টি দোকান ছিল, এখন আছে মাত্র ৮/৯টি দোকান।

শাঁখারি সুমন কুমার দত্ত বলেন, জীবিকার তাগিদে নয়, পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা এ শিল্পের সঙ্গে এখনো রয়েছি।

শাঁখারি অমৃত কুমার বিশ্বাস বলেন, এ শিল্প গোপালগঞ্জে আজ ধ্বংস প্রায়।  শাঁখা তৈরির কাঁচামালের অভাব, দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে হাজার বছরের পুরোনো এ শিল্পকে ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন শাঁখা শিল্পীরা। যদি সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা যায় তাহলে এ শিল্প আবারো তার পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

সংবাদটি পঠিতঃ ১৩২ বার