আজ শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭, ১০:৩৬:১৮

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০১৭ ০১:৫০:৩০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

তৃণমূলের কর্মকাণ্ডে সন্তষ্ট নয় আওয়ামী লীগ

মুক্তবাণী.কম

রোমান কবির 

তৃণমূল সংগঠনের কার্যক্রমের উপর পর্যবেক্ষণ করে সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তৃণমুল গোছাতে গিয়ে দেখা যায় কিছুতেই কমছেনা দ্বন্ধ-সংঘাত ও আন্তকোন্দল। বরং নির্বাচনকে সামনে রেখে তা যেন আরও প্রকট হচ্ছে। ক্ষমতার শুরু থেকে প্রভাব প্রতিপত্তি নিয়ে দ্বন্ধ নিত্তনৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।  গত সপ্তাহে ফরিদপুরে একজন নিহত হয়েছে দলীয় কোন্দলে। এর আগেও এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে তৃণমূলে আরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ক করে তৃণমূলে পাছানো হচ্ছে। সেখানের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মী ও সদস্যদের ডিজিটাল ডাটাবেজের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এতে করে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে কোন্দল নিরসন, যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং কেন্দ্রের যেকোনো নির্দেশনা সহজেই সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা তাদের। 

আওয়ামী লীগের গত জাতীয় সম্মেলনের পরেই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের দুটি এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের একটি করে বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুব-উল আলম হানিফকে চট্টগ্রাম ও সিলেট, ডা. দীপু মনিকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ, জাহাঙ্গীর কবির নানককে রংপুর ও রাজশাহী এবং আবদুর রহমানকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। সাত সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও সাত বিভাগে দায়িত্ব দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার তৃণমূলের সার্বিক তথ্য সংরক্ষণ করছেন। সেখানে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর ও ই-মেইল আইডির পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য চেয়ে ফরম দিয়ে তা পূরণ করে জমা নিচ্ছেন তারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সারাদেশের তৃণমূলের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ করছেন সবাই।

দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ইতোমধ্যে তার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় প্রায় সব জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি যে ফরমে তৃণমূলের তথ্য নিয়েছেন তাতে বেশকিছু প্রশ্ন ছিল- যেমন সর্বশেষ কবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে কিনা, না থাকলে কেন নেই, সাধারণ সভা ও বর্ধিত সভা নিয়মিত হয় কিনা, না হলে কেন হয় না, জেলা কমিটি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন কিনা ইত্যাদি। ওই ফরমের এসব প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব লিখে তা জমা দিচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় ই-মেইলে। কিন্তু সাংগঠনিক জেলায় বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে খামে করে পোস্ট অফিস বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। এতে করে দলীয় নির্দেশনা তৃণমূলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। পাশাপাশি এর জন্য একাধিক লোককে নিয়োজিত করতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগকে দলীয় ই-মেইল খুলতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-মেইল চালাচালি ও সাংগঠনিক জেলার ওয়েবসাইট কীভাবে চালাতে হয়, সে প্রশিক্ষণও দেয়া হবে তৃণমূলের নেতাদের।

নতুন এসব উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক তথ্যভা-ার বা ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজেও গতি আনতে চায় ক্ষমতাসীনরা। উদ্যোগ নেয়ার পরে ২০১৪ সালের শেষের দিকে মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, পৌর, ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের নাম, ঠিকানাসহ এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি কমিউনিটি পোর্টাল নিবন্ধন ফরম দ্রুত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জমা দিতে জেলা নেতাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তৃণমূল থেকে অনেকে তথ্য দিলেও অনেক জায়গার সব তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘ দিনেও কাজটি শেষ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন খুব শিগগিরই এই কাজও শেষ করতে চাইছেন তারা।

এ বিষয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ কাজটি এখনো শেষ হয়নি। তবে অনেকটা হয়ে গেছে, প্রায় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত। তবে এটা নিয়মিত আপডেট করতে হয়। একেবারে সদস্য লেভেল পর্যন্ত, সেটি এখনো হয়নি। আমরা এটা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।

সংবাদটি পঠিতঃ ৮৪ বার



সর্বশেষ খবর