আজ শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭, ১২:৩৩:০৭

প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৩ মার্চ ২০১৭ ০৬:৪৮:৫০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

‘চলচ্চিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী’

মুক্তবাণী.কম

হালের একজন উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতা নীহাজ খান। যার শুরু মঞ্চে অভিনয় দিয়ে। অভিনয় করেছেন টেলিভিশন নাটকেও। নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু টেলিভিশন নাটক ও শর্টফিল্ম।  নীহাজ খানের জন্ম ১৯৮৪ সালের ২৭ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলার দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামে। তার বাবা মরহুম মহির উদ্দিন ও মাতা হাজেরা বেগম। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সম্প্রতি শুরু হচ্ছে স্বপ্নচূড়া মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ও তাঁর নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা “একপলক ভালোবাসা”। এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যে শুটিংয়ের কাজ শুরু করবেন। তাঁর বর্তমান কাজ ও ভবিষ্যতের অনেক পরিকল্পনা নিয়ে মুক্তবাণী ডটকমের সঙ্গে আলাপ করেছেন তিনি। তার এই আলাপনের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে এনেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রোমান কবির।

মুক্তবাণী: কেমন আছেন?

নীহাজ খান: ভালো।

মুক্তবাণী : চলচ্চিত্রে আসার গল্প শুনতে চাই প্রথমে

নীহাজ খান: ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতাম। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিল। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছি। খুব বেশি স্বচ্ছল ছিলাম এরকমটিই নয়। তবে হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে এক বন্ধুর সহযোগিতায় নাগরিক নাট্যাঙ্গন চিলড্রেন আনসাম্বল নামের একটি নাটকের দলে যোগ দেই। সেখানে শিশু অভিনেতা হিসেবে কাজ করি। তখন থেকেই মঞ্চে অভিনয় করতাম। সেখানে ভালো অভিনয়ের জন্য বড়দের সেকশনে অভিনয়েও কাজ করার সুযোগ পাই। কলেজ জীবনে মঞ্চ অভিনয় করতে করতে ডাক পাই টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করার। তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা সাজ্জাদ হোসেনের হাত ধরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ে আসা। প্রথমে পাসিং শট দিয়ে কাজ করি। পরে আস্তে আস্তে এমনও হয়েছে আমি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছি। অভিনেতা আবুল হায়াত, আমিরুল হক চৌধুরী, জামালউদ্দিন হোসেনের মত অভিনেতার সহঅভিনেতা হিসেবে কাজ করেছি।

মুক্তবাণী: নির্মাণে আসলেন কবে থেকে ?

নীহাজ খান: চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন ছোটবেলা থেকে। টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করার সময় মনে হলো নাটক নির্মাণ করবো। ২০০৭ সালে আমি একটি স্ক্রিপ্টও করেছিলাম। ২০১৩ সালে এসে টেলিভিশন নাটক ‘এক মুঠো স্বপ্ন নির্মাণ’ করি। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ১৩ জন নির্মাতার সহকারী হিসেবে কাজ করি। নিজে নির্মাণ করেছি প্রায় ৪টির মতো টেলিভিশন নাটক।

মুক্তবাণী: সম্প্রতি কোন কাজ করেছেন?

নীহাজ খান: সম্প্রতি শেষ করলাম “কলেজ মোড়” নামে একটি শর্টফিল্মের কাজ। এর পোস্ট প্রোডাকশন এখনও বাকি আছে।

মুক্তবাণী: আপনি যে সব ছবি বানাচ্ছেন বা বানাবেন এর কোনো মেসেজ আছে। আপনার ছবির দর্শক কারা।

নীহাজ খান: হ্যাঁ। আমি বিশেষ করে ইয়াং তরুণ প্রজন্মের জন্য সিনেমা বানাই। তাদের প্রেম, স্বপ্ন, সুখ-দু:খ ইত্যাদি। আমার সব ছবিতে তাদের জন্য আমি একটা মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করি। আমি চাই এখনকার তরুণ সমাজ হলে ফিরে আসুক। আমি আশা করি আমার ছবিতে তারা যা চায় সেই ধরণের উপকরণ পাবে।  

মুক্তবাণী: কিন্তু এখনকার জেনারেশন তেমন হলে আসতে চায়না। তারা অনেকটাই বাংলা চলচ্চিত্র থেকে যেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এর কারণটা কী। এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে আপনি মনে করেন?

নীহাজ খান: না। এ দেশে কিছু ভালো সিনেমা নির্মাণ হয়েছে এবং এ জেনারেশন না শুধু সব বয়সী মানুষই হলে গিয়েছে ছবি দেখতে। যেমন মনপুরা, আয়নাবাজী, টেলিভিশনসহ ভালো ভালো সিনেমা হয়েছে। আমি মনে করি আমাদের এই জেনারেশনের বেশ কিছু নির্মাতা আসছে। তারা ভালো ভালো সিনেমা নির্মাণ করছে।  আমি আশাবাদী তরুণ জেনারেশন হলে নিয়মিত হবে যখন দেখবে ভালো ছবি হচ্ছে। আর এর জন্য পরিবর্তন করতে হবে আমাদের তরুণ নির্মাতাদের। আর পরিবর্তন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মুক্তবাণী: অনেক ভালো ছবি এ দেশে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু দর্শক পাওয়া যায়নি। যেমন সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা নামের একটি ছবি হয়েছে। যা শ্রমজীবি প্রবাসী ভাইদের নিয়ে। কিন্ত এ ছবি দেখতে হলে দর্শক ছিলো খুবই সামান্য। আর ৭-৮টি হল ছাড়া আর তেমন কোনো হলই পায়নি। এর জন্য কে দায়ী?

নীহাজ খান: হ্যাঁ। এটা ঠিক। কারণ চলচ্চিত্রে এখন আধিপত্যবাদের দৌড়াত্ন চলছে। একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। যারা আসলে নিজেদের আধিপত্যবাধের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চায়না। এফডিসিতে সিন্ডিকেট, টেলিভিশন নাটকে সিন্ডিকেট। টেলিভিশনে এখনও ৪০০ এর উপরে নাটক পড়ে আছে। কারণ মামা, খালু  বা কোনো প্রভাবশালীদের কেউ হয়না এ সব নির্মাতা। তাই তাদের নাটকও চলে না।

মুক্তবাণী: চলচ্চিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটুকু জরুরী বলে মনে করেন?

নীহাজ খান: শিক্ষা অবশ্যই জরুরী। এক্ষেত্রে নির্মাতা চাষী ভাইয়ের (চাষী নজরুল ইসলাম) একটি কথা আমার মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে সবকিছু সম্পর্কে জানতে হয়। ধানকাটা থেকে শিক্ষকতা পর্যন্ত। আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চলচ্চিত্র পরিচালনা, অভিনয়, নাচ, গান শিখে আসতে হয়। এখনকার নতুন প্রজন্মেই অনেকে এই জগতে চলে আসে। কিন্তু নাচ, গান, অভিনয় সম্পর্কে তাদের তেমন কোন জ্ঞান নেই। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী। থিয়েরিটিক্যাল যেমন জানা দরকার, তেমন প্রাকটিক্যাল। তাহলেই ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। তবে এখন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে গুরত্ব দিচ্ছে। এটা ভালো। এমনটা হলে একটা পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মুক্তবাণী: আপনাকে ধন্যবাদ

নীহাজ খান: ধন্যবাদ আপনাকে ও মুক্তবাণী ডটকমকে।

সংবাদটি পঠিতঃ ২৬৫ বার



সর্বশেষ খবর